অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করার নিয়ম ১ মিনিটে
সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন কারণে অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করা বর্তমানে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় কাজ। জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ড যখন প্রিন্ট ও বিতরণের জন্য প্রস্তুত হয় তখন প্রত্যেক ভোটারের জন্য এটি জানা জরুরি। বাংলাদেশে প্রায় নয় কোটি ভোটারের মধ্যে এখনও বহু ভোটার তাদের স্মার্ট কার্ড হাতে পাননি। তাই আপনার স্মার্ট কার্ড প্রস্তুত হয়েছে কিনা তা নিয়মিতভাবে অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক অত্যন্ত সহজ ও যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে সম্পন্ন করা সম্ভব।
স্মার্ট কার্ড কী ও এর সুবিধা
স্মার্ট কার্ড হলো ভোটার পরিচয়পত্রের একটি উন্নত ও ডিজিটালীকৃত সংস্করণ। এই কার্ডের মধ্যে একটি বিশেষ মাইক্রোচিপ স্থাপিত থাকে যা নাগরিকের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করে। এই মাইক্রোচিপে নাগরিকের ছবি, নাম, জন্ম তারিখ, আঙ্গুলের ছাপ, আইরিশের তথ্যসহ মোট ৩২টি ধরনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। এই মাইক্রোচিপের কারণে স্মার্ট কার্ডের নকল করা বা জালিয়াতি করা প্রায় অসম্ভব।
সাধারণ ভোটার আইডি কার্ডের তুলনায় স্মার্ট কার্ড অনেক বেশি নিরাপদ ও ইলেকট্রনিক ভোটার যাচাই ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত । বাংলাদেশে স্মার্ট কার্ড প্রকল্প শুরু হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্যে এবং ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিক ভোটার মেশিনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি হিসেবে। বর্তমানে প্রায় এক কোটিরও বেশি ভোটার স্মার্ট কার্ড লাভ করেছেন। তবে বাকি ভোটারদের জন্য এই এই স্মার্টকার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া বর্তমানে চালু রয়েছে ও বর্তমানে বিতরণে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচলনা করছে ইসি।
অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করার নিয়ম
এখন অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করা বেশ সহজ। হাতে থাকা ৫ মিনিট সময় দিলে আপনি এটি সম্পন্ন করতে পারবেন বেশ দ্রুত। অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করার জন্য সরকারি ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করতে হয়। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নিম্নে উপস্থাপিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
- প্রথমে https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/card-status/ এই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

- ওয়েবসাইটের প্রধান পৃষ্ঠায় একটি ফর্ম প্রদর্শিত হবে যেখানে দুটি বিকল্প থাকবে – NID নম্বর এবং ফর্ম নম্বর।
- আপনার কাছে যে নম্বরটি রয়েছে তা ব্যবহার করুন। যদি NID নম্বর থাকে তাহলে সেটি এবং যদি ফর্ম নম্বর থাকে তাহলে NIDFN এর সাথে ফর্ম নম্বরটি লিখতে হবে।
- তারপর আপনার জন্ম তারিখ দিন-মাস-বছরের ফরম্যাটে লিখতে হবে।
- নির্দেশিত ক্যাপচা কোডটি সঠিকভাবে টাইপ করুন।
- সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর “Submit” বোতামে ক্লিক করুন।
সাবমিট করার পর স্ক্রিনে আপনার স্মার্ট কার্ডের বর্তমান অবস্থা স্পষ্টভাবে দেখানো হবে। এতে দেখা যাবে যে কার্ডটি প্রদান করার জন্য প্রিন্ট করা হয়েছে কিনা, প্রস্তুত কিনা বা এখনও প্রিন্টের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে কিনা। এই তথ্যের মাধ্যমে আপনি সঠিক সময়ে আপনার স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের সঠিক সময় জানতে পারবেন।
এসএমএস এর মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড চেক করার পদ্ধতি
ইন্টারনেট সংযোগের সুযোগ না থাকলে এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করা যায়। এই পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ ও যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে সম্পন্ন করা সম্ভব। এসএমএস এর মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড চেক করার জন্য নিম্নে উপস্থাপিত পদ্ধতি সমূহ অনুসরণ করতে হবে:
| চেক করার ধরন | এসএমএস ফরম্যাটের বিবরণ | প্রেরণের নম্বর |
| NID নম্বর দিয়ে চেক করা | SC NID এর পরে আপনার ১০ সংখ্যার NID নম্বর লিখুন | ১০৫ |
| ফর্ম নম্বর দিয়ে চেক করা | SC F এর পরে ফর্ম নম্বর এবং D এর পরে জন্ম তারিখ লিখুন | ১০৫ |
উদাহরণস্বরূপ:
- যদি আপনার NID নম্বর ১২৩৪৫৬৭৮৯০ হয় তাহলে এসএমএস করতে হবে: SC NID ১২৩৪৫৬৭৮৯০ এবং পাঠাতে হবে ১০৫ নম্বরে।
- যদি ফর্ম নম্বর দিয়ে চেক করতে চান তাহলে: SC F ১২৩৪৫৬৭৮ D ০১-০১-১৯৯০ এই ফরম্যাটে এসএমএস পাঠাতে হবে।
এসএমএস পাঠানোর পর ফিরতি এসএমএস এ আপনার স্মার্ট কার্ডের বর্তমান অবস্থা, প্রিন্টের তারিখ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করা হবে। এই পদ্ধতির সুবিধা হলো এতে কোনো ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হয় না। যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে এই সেবা গ্রহণ করা সম্ভব।
প্রিন্টযোগ্য স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করার পদ্ধতি
যদি আপনার প্লাস্টিকের স্মার্ট কার্ড এখনও প্রস্তুত না হয় তাহলে আপনি অনলাইন থেকে প্রিন্টযোগ্য স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করতে পারেন। এই প্রিন্টযোগ্য কার্ডটি প্রিন্ট এবং ল্যামিনেট করে আপাতকালীন পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রিন্টযোগ্য স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড করার জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
১. https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/claim-account/ লিঙ্কে প্রবেশ করুন।
২. NID নম্বর অথবা ফর্ম নম্বর এবং জন্ম তারিখ ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করুন।
৩. ক্যাপচা যাচাইয়ের পর বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করুন।
৪. একটি মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে OTP যাচাই সম্পন্ন করুন।
৫. অন্য একটি মোবাইল ডিভাইসে NID Wallet অ্যাপ ইনস্টল করে ফেসিয়াল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
৬. সফল ভেরিফিকেশনের পর অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
৭. লগইন করার পর ডাউনলোড অপশনে গিয়ে প্রিন্টযোগ্য স্মার্ট কার্ডের PDF ফাইল ডাউনলোড করুন।
ডাউনলোড করা PDF ফাইলটি যেকোনো কম্পিউটার সার্ভিস সেন্টার বা প্রিন্টিং শপ থেকে প্রিন্ট ও ল্যামিনেট করে ব্যবহার করা যায়। এই প্রিন্টযোগ্য কার্ডটি আপনার পরিচয় যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা যায় যতক্ষণ না আপনি আসল প্লাস্টিকের স্মার্ট কার্ডটি হাতে পান।
স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তির প্রক্রিয়া ও সময়কাল
নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে স্মার্ট কার্ড তৈরি হওয়ার পর সাধারণত উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হয়। তবে পুরনো ভোটারদের ক্ষেত্রে স্মার্ট কার্ড পেতে বায়োমেট্রিক তথ্য পুনরায় সংগ্রহ করতে হয়। এর জন্য আপনাকে অবশ্যই নিম্নের উপস্থাপিত ধাপ সমূহ সম্পন্ন করতে হবে:
- পুরাতন ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি সহ নিকটস্থ উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করতে হবে।
- অফিস থেকে প্রাপ্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ঢাকার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে যেতে হবে।
- সেখানে আঙ্গুলের ছাপ এবং আইরিশের তথ্য পুনরায় সংগ্রহ করতে হবে।
- বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর একটি স্লিপ প্রদান করা হবে।
- এই স্লিপটি নিজের উপজেলা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হবে।
এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্মার্ট কার্ড প্রিন্টের জন্য প্রস্তুত হয় তখন অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করে এর অবস্থা জানা যায়। স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট ও বিতরণের কাজ একটি বিশাল প্রক্রিয়া হওয়ায় কারণে স্মার্টকার্ড হাতে পেতে কয়েক মাস থেকে এক বছর বা তার বেশি সময়ও লাগতে পারে।
স্মার্ট কার্ড চেক করার সমস্যা এবং সমাধান
কখনও কখনও অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করার সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন ক্যাপচা কোড সঠিকভাবে চেনা না যাওয়া, NID বা ফর্ম নম্বর সঠিকভাবে লেখা না হওয়া, জন্ম তারিখের ফরম্যাট ভুল হওয়া ইত্যাদি। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য নিম্নে উপস্থাপিত বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখতে হবে:
- জন্ম তারিখ সবসময় দিন-মাস-বছরের ফরম্যাটে লিখতে হবে, যেমন ০১-০১-১৯৯০।
- ফর্ম নম্বর লেখার সময় NIDFN এর পরে সংখ্যাটি লিখতে হবে।
- ক্যাপচা কোড স্পষ্টভাবে দেখার জন্য ছবি পরিবর্তন করার অপশন ব্যবহার করা যায়।
- যদি একাধিকবার চেষ্টা করেও ফলাফল না পাওয়া যায় তাহলে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করতে হবে।
এছাড়াও যদি কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয় তাহলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসের সাথে যোগাযোগ করুন। তবে বছরের নিদিষ্ট সময়ে জাতীয় নির্বাচন কোন কারনে সেবা বন্ধ থাকতে পারে। সেহেতু স্মার্ট কার্ড চেক করার পূর্বে অবশ্যই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট সেবা চালু আছে কিনা এ বিষয়ে জেনে নিন।
আরও জানতে পারেনঃ ভোটার আইডি কার্ডের ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তন করার নিয়ম
শেষ কথা
অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করা একটি সহজ এবং কার্যকর পদ্ধতি যার মাধ্যমে প্রত্যেক ভোটার তাদের কার্ডের প্রস্তুতি অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে পারেন। অনলাইন ওয়েবসাইট ও এসএমএস উভয় পদ্ধতির মাধ্যমেই এই সেবা গ্রহণ করা সম্ভব। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটাররা নিয়মিত তাদের কার্ডের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকতে পারেন ও সঠিক সময়ে তাদের স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে পারেন। প্রত্যাশা করি এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে “অনলাইনে স্মার্ট কার্ড চেক করার নিয়ম” সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছি। এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকে অবশ্যই কমেন্ট করে আমাদের জানাতে ভুলবেন না।








