Passport

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে কাগজপত্র

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে জানেন কী?  সাধারণত অত্যাবশ্যক ডকুমেন্টস হিসেবে পাসপোর্ট ইস্যু করার জন্য আবেদন করতে হলে আপনার কাছে জাতীয় পরিচয় পত্র কিংবা অনলাইনে প্রাপ্ত জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকা আবশ্যক। যেসব নাগরিকের এনআইডি কার্ড রয়েছেতারা তাদের ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহার করে এবং যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র এখনও তৈরি হয়নি তারা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদের মাধ্যমেই অনলাইনে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন জমা দিতে সক্ষম হবেন।

অনলাইনে পাসপোর্টের জন্য আবেদন যথাযথভাবে সম্পন্ন করলেও, আবেদন প্রক্রিয়ার সাথে কোন ধরনের কাগজপত্র জমা দিতে হয় সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাবে অনেকেই পরবর্তীতে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে নানাবিধ জটিলতার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। ই-পাসপোর্ট সেবার জন্য আবেদন করার সময় যদি প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংযুক্ত না করা হয়, তাহলে সেই আবেদনটি গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হবে না। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ মূলত আমরা আপনাকে জানাবো “পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে” এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য। তাহলে এখনই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে আলোচনাটি শুরু করা যাক।

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে কাগজপত্র

যে সকল নাগরিক প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ যাদের বয়স আঠারো বছরের বেশিতাদের জন্য ই-পাসপোর্ট আবেদনে জাতীয় পরিচয়পত্র বিশেষ করে প্রয়োজন হয়ে থাকে। অন্যদিকে, যারা এখনও প্রাপ্তবয়স্ক হননি বা যাদের বয়স বিশ বছরের নিচে তাদের জন্য পাসপোর্ট আবেদন জমা দিতে হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করতে হবে। যারা এখনও হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি তারা জন্ম নিবন্ধন সনদকেই জাতীয় পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই আবেদন করতে পারবেন।

সরকারি চাকুরিতে নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ (GO) অথবা কোনো আপত্তি নেই এমন সার্টিফিকেট (NOC) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই বিশেষ ডকুমেন্টগুলোর পাশাপাশি অবশ্যই নাগরিকত্ব সনদপত্র অথবা ওয়ার্ড চেয়ারম্যান/ইউনিয়ন পরিষদ প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট এবং নিজের পেশা সনাক্তকারী প্রমাণপত্রও আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

আরও জানতে পারেনঃ পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম

কোনো কারণে যদি আপনার পাসপোর্ট হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে পুনরায় ইস্যুর জন্য আবেদন করতে হবে। এই ধরনের আবেদনে সাধারণ ডায়েরি বা জিডি’র অনুলিপি সংযুক্তি আবশ্যক। আপনার পাসপোর্টটি যে থানা এলাকার অধীনে হারানো বা চুরি হয়েছে। সেখানে সাধারণ ডায়েরি করে তার একটি সনদ সংগ্রহ করে রাখুন।

ই-পাসপোর্টের জন্য অনলাইন আবেদন সফলভাবে জমা দেওয়ার পর, পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। যদি পেমেন্টের মাধ্যম হিসেবে অফলাইন অপশন নির্বাচন করা হয়। তাহলে নির্ধারিত ব্যাংকের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধ সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে আপনাকে একটি পেমেন্ট স্লিপ বা রশিদ প্রদান করা হবে। এই রশিদটি অবশ্যই আপনার আবেদনের অন্যান্য কাগজপত্রের সাথে সংযুক্ত করতে ভুলবেন না।

ই-পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে কাগজপত্র

পার্সপোর্ট করার জন্য যেসকল কাগজপএ প্রয়োজন হয়ে থাকে তা নিম্নে উপস্থাপন করা হয়েছে:

  • পাসপোর্ট আবেদনের অনলাইন কপি
  • আবেদন পত্রের সারসংক্ষেপ
  • জাতীয় পরিচয়পত্র / জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • পাসপোর্ট ফি পরিশোধের ব্যাংক রশিদ
  • নাগরিকত্ব সনদ / চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট
  • পেশাগত অবস্থান প্রমাণের জন্য ডকুমেন্ট

পাসপোর্ট অধিদপ্তর কর্তৃক ২৩ অক্টোবর, ২০২২ তারিখে জারি করা নির্দেশিকা অনুসারে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকা অবশ্যই লাগবে।

ই-পাসপোর্ট করার ধাপসমূহ

যেসব অপ্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের বয়স এখনও বিশ বছরের নিচে ও যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র এখনও তৈরি হয়নি। তারা তাদের আবেদনপত্রের সাথে অনলাইনে প্রাপ্ত জন্ম নিবন্ধন সনদের পাশাপাশি পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে বাধ্য থাকবেন।

বর্তমান সময়ে জাতীয় পরিচয় পত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন করা অত্যন্ত সহজ হয়ে উঠেছে। অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করে মাত্র ২১ থেকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এনআইডি কার্ড ডাউনলোড করে যেকোনো প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।

সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কাগজপত্র হিসেবে জিও বা এনওসি পেপার জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীর বয়স এবং তার পেশাগত অবস্থানের উপর ভিত্তি করে আবেদনের সাথে জমা দেয়া কাগজপত্রের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, নাবালক বা শিশুদের পাসপোর্ট তৈরির জন্য যে সকল ডকুমেন্টের প্রয়োজন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশী নাগরিকের ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে তার চেয়ে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাবে।

একইভাবে, সাধারণ নাগরিক এবং সরকারি চাকুরিতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকায় কিছুটা তারতম্য লক্ষ্য করা যায়।

শিশুদের ই-পাসপোর্ট তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

শিশুদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রধানতম প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট। এর সাথে অবশ্যই শিশুর পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের সঠিক কপি সংযুক্ত করতে হবে। পিতা-মাতার মধ্যে যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তাদের ক্ষেত্রেও পাসপোর্ট আবেদনের সময় পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শিশুদের পাসপোর্ট ইস্যুর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টসের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিম্নরূপ:

  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
  • পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • পাসপোর্ট আবেদন পত্রের সারসংক্ষেপ
  • পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম
  • পাসপোর্ট ফি পরিশোধের অফিসিয়াল রশিদ
  • ল্যাব প্রিন্টকৃত 3R সাইজের ছবি (ধূসর ব্যাকগ্রাউন্ড)

সরকারি চাকুরিজীবীদের পাসপোর্ট আবেদনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট

সরকারি চাকুরিজীবীদের পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়ায় সাধারণ নাগরিকদের তুলনায় একটি অতিরিক্ত ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। যা হলো এনওসি বা জিও পেপার। এছাড়া বাকি সকল কাগজপত্র একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য যা প্রয়োজন। সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্যও একই রকম থাকে। যেমন:

  • এনওসি (No Objection Certificate): সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি তার ব্যক্তিগত কাজে বিদেশে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন, তাহলে তাকে তার সংশ্লিষ্ট বিভাগ, অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তি পত্র বা এনওসি সংগ্রহ করে আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হয়।
  • জিও (Government Order): জিও হলো সরকারি আদেশ। যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে দেশের বাইরে ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট তৈরি করতে চান, তাহলে তাকে সরকারি আদেশের কপি পাসপোর্ট আবেদনের সময় জমা দিতে হবে।

প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ যাদের বয়স আঠারো বছর বা তার বেশি, তাদের পাসপোর্ট তৈরির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নাগরিক সনদপত্রের প্রয়োজন হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
  • ই-পাসপোর্ট আবেদনের সারসংক্ষেপ
  • পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম
  • পাসপোর্ট ফি পরিশোধের চালান / ব্যাংক ড্রাফট
  • পেশা শিক্ষার্থী হলে শিক্ষার্থী আইডি কার্ডের ফটোকপি
  • নাগরিকত্ব সনদপত্র

প্রি-পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পর্কে

প্রি-পুলিশ ভেরিফিকেশন সকলের জন্য প্রযোজ্য নয়। যারা জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট পেতে চান। যেমন: চিকিৎসার প্রয়োজনে বা অত্যন্ত জরুরি কাজে সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারিতে পাসপোর্ট করতে ইচ্ছুক। তাদের ক্ষেত্রে আগে থেকেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে আবেদন করতে হয়।

হারানো পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যু করতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট

কোনো কারণে যদি পাসপোর্ট হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর জন্য আবেদন করতে হবে। এই আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণ নতুন পাসপোর্ট আবেদনের মতোই। তবে এই ক্ষেত্রে সাধারণ পাসপোর্ট আবেদনে যে সকল ডকুমেন্ট জমা দিতে হয় তার সাথে অতিরিক্তভাবে পাসপোর্ট হারানোর বিষয়ে করা জিডি’র কপি সংযুক্ত করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে পাসপোর্ট করা যায় কিনা

যাদের বয়স বিশ বছরের কম অর্থাৎ যাদের এখনও জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি হয়নি। তারা তাদের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করেই ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই ক্ষেত্রে পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি বাধ্যতামূলকভাবে আবেদনের সাথে যুক্ত করতে হবে।

পাসপোর্ট অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম কোনটি?

অনলাইনে পাসপোর্টের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ ধাপে আবেদনকারীকে আবেদনের সারসংক্ষেপ ও অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম ডাউনলোড করার অপশন প্রদান করা হয়। আপনি আবেদন ফর্মে যা যা তথ্য প্রদান করেছেন তার সম্পূর্ণ বিবরণ এই ডাউনলোডকৃত ফরমেই উল্লেখ থাকবে।

শেষ কথা

প্রত্যাশা করি আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে কাগজপত্র এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আপনাকে জানাতে পেরেছি। তবে এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button