পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা লেখার নিয়ম
পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা অনুসন্ধান করছেন কিন্তু ফলাফল পাচ্ছেন না? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। আপনার পাসপোর্টে যদি নামের বানানে একটি অক্ষরের ভুল থাকে, জন্মতারিখে একদিনের গরমিল থাকে কিংবা পিতা-মাতার নাম ভুলভাবে ছাপা হয়ে থাকে। তাহলে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন, চাকরির ভিসা আটকে যাওয়া বা এমনকি এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন আটকে দেওয়ার মতো বড় বিপদ হতে পারে। এই সকল ভুল সংশোধনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান নম্বর শর্ত হলো সঠিক ফরম্যাটে “পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা” জমা দেওয়া।
অনেকেই ভাবেন যে পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা একটি সাধারণ কাগজে, হাতে লিখে দিলেই হবে কিনা। সাধারণত আবেদনকারী টাইপ করে বা হাতে লিখে যেভাবে দিক না কেন নিরক্ষণকারী অফিসারের বোধগম্য হলেই হবে। কিন্তু বর্তমান সালে এসে নিয়ম এতটা কঠোর হয়েছে যে, ভুল ফরম্যাটে অঙ্গীকারনামা দিলে পুরো আবেদন সঙ্গে সঙ্গে রিজেক্ট হয়ে যায় ও আবার নতুন করে ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়।
এই আর্টিকেলে আমরা আপনাকে ধাপে ধাপে একদম হাতে-কলমে দেখাব কীভাবে আপনি বর্তমানে সময়ে সর্বশেষ গেজেট ও ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা তৈরি করবেন যাতে আপনার আবেদন ১০০% গ্রহণযোগ্য হয়। তবে প্রথমেই জেনে নিতে হবে পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা কী এ সম্পর্কে।
পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা আসলে কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
অঙ্গীকারনামা হলো একটি আইনি দলিল যার মাধ্যমে আপনি সরকারের কাছে লিখিতভাবে স্বীকার করছেন যে:
- পাসপোর্টে ছাপা ভুল তথ্য আপনার ইচ্ছাকৃত নয়।
- আপনি যে নতুন তথ্য দিচ্ছেন তা শতভাগ সঠিক ও তার প্রমাণ সংযুক্ত করছেন।
- ভবিষ্যতে এই সংশোধিত তথ্য নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা হলে তার দায় সম্পূর্ণ আপনার।
এই কাগজটি ছাড়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, আগারগাঁও ই-পাসপোর্ট অফিস কিংবা উত্তরা ই-পাসপোর্ট অফিসে কোনো সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হয় না। এমনকি অনলাইনে আবেদন করার সময় “Upload Affidavit” অপশনে এই কাগজটি আপলোড না করলে আবেদন “Incomplete” দেখায়।
পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা লেখার নিয়ম (সর্বশেষ আপডেট)
অবশ্যই পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা লেখার নিয়ম সঠিক ভাবে হতে হবে। নিম্নে ধাপে ধাপে সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী তথ্য সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে:
১. কাগজ ও টাইপিং নিয়ম
- শুধুমাত্র সাদা A4 সাইজের কাগজ ব্যবহার করবেন।
- ফন্ট: সুতনি এমজে বা কালপুরুষ (সাইজ ১২–১৪)।
- লাইন স্পেসিং: ১.৫।
- প্যারাগ্রাফের মাঝে এক লাইন ফাঁকা রাখবেন।
- চারদিকে ১ ইঞ্চি মার্জিন
- হাতে লেখা একদম গ্রহণযোগ্য নয় অবশ্যই কম্পিউটার কম্পোজ হতে হবে (অনেকের হাতে লেখা বোধগম্য নয়)।

২. অবশ্যই সত্যায়িত করাতে হবে
২০২৫ সাল থেকে শুধু নোটারি পাবলিক অথবা ১ম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা (বিসিএস ক্যাডার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, ব্যাংকের জিএম/ডডিজিএম) দিয়ে সত্যায়িত করতে হবে। সাধারণ এডভোকেট বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সত্যায়ন আর গ্রহণ করা হয় না।
৩. পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা
আমি ...................................................., পিতা/স্বামী: ...................................................., মাতা: ...................................................., গ্রাম/রোড: ...................................................., থানা: ...................................................., জেলা: ...................................................., জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ...................................................., মোবাইল: ....................................................।
এতদ্বারা অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমার পাসপোর্ট নম্বর ...................................................., তারিখ .................................................... ইস্যুকৃত পাসপোর্টে আমার নাম/পিতার নাম/মাতার নাম/জন্ম তারিখ/জন্মস্থান/স্থায়ী ঠিকানা/বৈবাহিক অবস্থা ভুলবশত নিম্নোক্তভাবে মুদ্রিত হয়েছে।
পাসপোর্টে যা আছে : ....................................................
প্রকৃত ও সঠিক তথ্য : ....................................................
আমি উপরোক্ত সঠিক তথ্যের স্বপক্ষে আমি এসএসসি সার্টিফিকেট/জন্ম নিবন্ধন সনদ/জাতীয় পরিচয়পত্র/বিবাহের কাবিননামা/ডিভোর্স ডিক্রি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) সত্যায়িত কপিসহ সংযুক্ত করিয়া দাখিল করিতেছি।
আমি আরও অঙ্গীকার করিতেছি যে, উপরোক্ত সংশোধিত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হইলে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব আমার উপর বর্তাবে এবং সরকার বা পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার দায়ী করিব না।
ঘোষকের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ ঘোষকের স্বাক্ষর
তারিখ: ....................................................
সত্যায়িত করিলাম
ঘোষক আমার নিকট পরিচিত এবং তিনি এই অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করিয়াছেন।
নোটারি পাবলিক / ১ম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা
নাম, পদবি, সীল ও স্বাক্ষর
তারিখ:
পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা word file
পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা word file সংগ্রহ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা ওয়েবসাইট থেকে Word File সংগ্রহ করতে হবে নিম্নে ধাপ আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে:
প্রথমে “পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা” এখানে প্রেস করে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যান।

নিচের ছবির মার্ক করা অপশনে প্রেস করে Word File সংগ্রহ করে নিন।
পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা pdf – প্রিন্ট করুন সরাসরি
পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা PDF সংগ্রহ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা ওয়েবসাইট থেকে PDF সংগ্রহ করতে হবে নিম্নে ধাপ আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে:
প্রথমে “পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা” এখানে প্রেস করে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যান।

নিচের ছবির মার্ক করা অপশনে প্রেস করে PDF সংগ্রহ করে নিন।
কোন কোন সংশোধনের জন্য অঙ্গীকারনামা লাগবে?
কোন কোন সংশোধনের জন্য অঙ্গীকারনামা প্রয়োজন তা নিম্নে উপস্থাপন করা হয়েছে:
| সংশোধনের ধরন | প্রয়োজনীয় প্রমাণ | অঙ্গীকারনামা লাগবে? | নোটারি লাগবে? |
| নামের বানান ভুল | এসএসসি/জন্ম নিবন্ধন/এনআইডি | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
| পুরো নাম পরিবর্তন (আদালতের ডিক্রি) | আদালতের ডিক্রি + গেজেট প্রকাশ | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
| জন্মতারিখে ভুল | জন্ম নিবন্ধন (প্রাধান্য) + এসএসসি | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
| পিতা-মাতার নাম ভুল | জন্ম নিবন্ধন | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
| স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন | বিদ্যুৎ/গ্যাস বিল বা এনআইডি | কিছু ক্ষেত্রে না | না |
| বৈবাহিক অবস্থা (বিবাহ/তালাক) | কাবিননামা/তালাকনামা | হ্যাঁ | হ্যাঁ |
| ছবি পরিবর্তন বা হারানো পাসপোর্ট | নতুন ছবি + জিডি কপি | না | না |
যে কারনে পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা রিজেক্ট হয়
বেশ কিছু কারন রয়েছে। এসকল কারনে পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা প্রদান করার পরেও রিজেক্ট হয়ে থাকে। যেমন:
- হাতে লেখা অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়া
- পুরনো ২০২২-২৩ সালের ফরম্যাট ব্যবহার করা
- নোটারি না করিয়ে সাধারণ এডভোকেট দিয়ে সত্যায়ন করানো
- বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপ না দেওয়া
- প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি না যাচাই না করা
- তারিখ ও মোবাইল নম্বর না লেখা
আরও জানতে পারেনঃ পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম
শেষ কথা
প্রত্যাশা করি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে “পাসপোর্ট সংশোধন অঙ্গীকারনামা “ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পেরেছি। আর্টিকেলরি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানান। অঙ্গীকারনামা জমা দেওঅর সময় অবশ্যই প্রমাণপএ প্রদান করা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।



