পাসপোর্ট সংশোধন করতে কতদিন সময় লাগে?
পাসপোর্ট সংশোধন করতে কতদিন সময় লাগে জানেন কী? বাংলাদেশে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের পাসপোর্টে ভুল থাকার কারণে বিদেশ যাত্রা আটকে যায়, চাকরি হারায়, এমনকি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসতে হয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যেটা সবাই করে থাকে পাসপোর্ট সংশোধন করতে কতদিন সময় লাগে? এই প্রশ্নের উত্তর বর্তমান সময়ে একদমই সোজা নয়। কারণ সময়টা নির্ভর করে আপনার ভুলের ধরন, কোন অফিসে আবেদন করছেন, কোন ডেলিভারি অপশন নিচ্ছেন ও সবচেয়ে বড় কথা আপনি কতটা সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন তার উপর।
এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ মূলত আমরা আপনাকে জানাবো পাসপোর্ট সংশোধন করতে কতদিন লাগে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য। সেহেতু এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
পাসপোর্ট সংশোধন কত প্রকার ও কোনটিতে কতদিন লাগে?
বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (DIP) সংশোধনকে মূলত ৪টি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। আপনি মূলত আপনার সংশোধনের নির্ভর করে দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পেতে পারেন। নিম্নে ধাপ আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে:
১. ছোটখাটো সংশোধন (Minor Correction)
- নামের বানান ভুল (যেমন: Mohammad vs Mohammed)
- জন্মতারিখে ১-২ দিনের পার্থক্য
- পেশা, ছবি, মোবাইল নম্বর পরিবর্তন
- সময় লাগে: ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবস (সাধারণ), ৩-৭ দিন (জরুরি)
২. মাঝারি সংশোধন (Re-issue with Correction – No Police Verification)
- এনআইডি-র সাথে নাম/জন্মতারিখে বড় পার্থক্য কিন্তু এসএসসি সার্টিফিকেট মিলে যায়
- স্ত্রী/স্বামীর নাম যোগ বা বাদ দেওয়া
- পিতা-মাতার নামে পরিবর্তন (এনআইডি মিললে)
- সময় লাগে: ১৫-৩০ দিন (সাধারণ), ৭-১৫ দিন (জরুরি)
৩. বড় সংশোধন (Re-issue + Police Verification Required)
- জন্মতারিখে ১ বছরের বেশি পার্থক্য
- নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তন (গেজেট/এফিডেভিট লাগবে)
- লিঙ্গ পরিবর্তন
- সময় লাগে: ৩০-৬০ দিন বা তারও বেশি (পুলিশ রিপোর্টের উপর নির্ভর করে)
৪. হারানো/নষ্ট পাসপোর্টের সংশোধন (Lost/Damaged + Correction)
- জিডি + সংশোধন একসাথে
- সময় লাগে: ৪৫-৯০ দিন
অঞ্চলভিত্তিক বাস্তব সময়সীমা (হাজারো আবেদনকারীর অভিজ্ঞতা থেকে)
| অঞ্চল / অফিস | সাধারণ (২১ দিন) | জরুরি (৭ দিন) | অতি জরুরি (২-৩ দিন) | মন্তব্য |
| আগারগাঁও, ঢাকা | ১০-১৮ দিন | ৫-৯ দিন | ২-৪ দিন | সবচেয়ে দ্রুত, সকালে গেলে ভালো |
| উত্তরা রিজিওনাল | ১২-২২ দিন | ৭-১২ দিন | ৩-৬ দিন | ভিড় বেশি |
| যাত্রাবাড়ী | ১৫-২৮ দিন | ৯-১৮ দিন | বন্ধ | অতি জরুরি বন্ধ |
| চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ | ১৮-৩৫ দিন | ১০-২০ দিন | ৫-১০ দিন | পুলিশ ভেরিফিকেশন দেরি করে |
| সিলেট | ১৫-৩০ দিন | ৮-১৮ দিন | ৪-৮ দিন | তুলনামূলক ভালো |
| রাজশাহী | ২৫-৫০ দিন | ১৫-৩০ দিন | সীমিত | সবচেয়ে ধীর |
| খুলনা | ২০-৪০ দিন | ১২-২৫ দিন | ৬-১২ দিন | মাঝামাঝি |
| বরিশাল | ৩০-৬০ দিন | ২০-৪০ দিন | নেই | সবচেয়ে বেশি দেরি |
(তথ্য হালনাগাদ: ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ১৫০০+ আবেদনকারীর ফেসবুক গ্রুপ, হেল্পলাইন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে)
আরও জানতে পারেনঃ পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম
পাসপোর্ট সংশোধন করতে কতদিন সময় লাগে
- অনলাইনে আবেদন → প্রিন্ট আউট → বায়োমেট্রিক: ১-৩ দিন
- পুলিশ ভেরিফিকেশন (যদি লাগে): ৭-৩০ দিন
- ডকুমেন্ট যাচাই (DIP): ৩-১০ দিন
- প্রিন্টিং (ঢাকায়): ২-৫ দিন
- ডেলিভারি/কুরিয়ার: ১-৩ দিন
মোট = ৭ দিন থেকে ৬০+ দিন
২০২৬ সালের সর্বশেষ পাসপোর্ট সংশোধন ফি
নিম্নে আমাদের সর্বশেষ আপডেটকৃত পাসপোর্ট সংশোধনের ফি নিন্মরূপ:
| পাসপোর্টের ধরন | সাধারণ (২১ দিন) | জরুরি (৭ দিন) | অতি জরুরি (২-৩ দিন) |
| ৪৮ পৃষ্ঠা – ৫ বছর মেয়াদ | ৪,০০০ টাকা | ৬,০০০ টাকা | ৮,০০০ টাকা |
| ৪৮ পৃষ্ঠা – ১০ বছর মেয়াদ | ৫,৫০০ টাকা | ৮,০০০ টাকা | ১০,০০০ টাকা |
| ৬৪ পৃষ্ঠা – ১০ বছর মেয়াদ | ৭,০০০ টাকা | ১০,০০০ টাকা | ১২,০০০ টাকা |
(দ্রষ্টব্য: সংশোধনের জন্য নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হয়। তাই ফি নতুন পাসপোর্টের সমান)
দ্রুত পাসপোর্ট সংশোধনের ১২টি গোপন টিপস
দ্রুত পাসপোর্ট সংশোধন করার জন্য আপনি বেশ কিছু টিপস অনুসরণ করতে পারেন। এ সকল টিপস অনুসরণ করলে আপনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আপনার পাসপোর্ট সংশোধন করতে পারবেন। যেমন:
- সবসময় “Re-issue” সিলেক্ট করুন, “New” নয়।
- “Observation Page”-এ স্পষ্ট করে লিখুন কী সংশোধন চান।
- এনআইডি, এসএসসি, বিবাহ সার্টিফিকেট সব সত্যায়িত কপি দিন।
- পুরাতন পাসপোর্টের অরিজিনাল + ২ সেট ফটোকপি নিয়ে যান।
- সকাল ৮টার আগে আগারগাঁও পৌঁছান – লাইন কম থাকে।
- জরুরি প্রয়োজন দেখাতে বিমানের টিকিট/ভিসা প্রিন্ট নিয়ে যান।
- পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগলে আগে থানায় জমা দিন।
- অনলাইনে ফি দিন (বিকাশ/নগদ/সোনালী ই-সেবা) – চালান হারানোর ভয় নেই।
- আবেদনের পরদিন থেকে http://www.dip.gov.bd-তে স্ট্যাটাস চেক করুন।
- প্রিন্ট হয়ে গেলে কুরিয়ার অপশন নিন (অতিরিক্ত ৩০০-৫০০ টাকা)।
- কোনো সমস্যা হলে হেল্পলাইন ০৯৬১২৩৩৩৮৮৮ নম্বরে কল করুন (সকাল ৯-বিকেল ৫টা)।
সবচেয়ে বেশি যে ভুলগুলো করে দেরি হয়
সাধারণত বেশ কিছু ভুলের কারণে আমাদের পাসপোর্ট সংশোধন হতে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রয়োজন হয়। যেমন:
- পুরাতন পাসপোর্ট জমা না দেওয়া।
- জন্মতারিখ এনআইডি-র সাথে না মেলানো।
- “Fresh Application” সিলেক্ট করা।
- গেজেট/এফিডেভিট ছাড়া নাম পরিবর্তনের আবেদন।
- পুলিশ ভেরিফিকেশন না করে বড় সংশোধনের চেষ্টা
- ছবি পুরাতন বা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড না হওয়া
শেষ কথা
প্রত্যাশা করি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে “পাসপোর্ট সংশোধন করতে কয়দিন লাগে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছি। তবে বর্তমান সালে সালে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকায় গেলে পাসপোর্ট সংশোধন করতে মাত্র ৩ থেকে ১৫ দিন লাগছে। জেলায় ১৫-৩৫ দিন। কিন্তু ভুল প্রস্তুতি থাকলে ৩ মাসও লাগতে পারে। এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানান।



