ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন জন্ম নিবন্ধন অফিসের তালিকা
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন জন্ম নিবন্ধন অফিস সম্পর্কে অনেকেই বিস্তারিত তথ্য জানতে চান? নতুন শিশুর জন্মের পর অভিভাবকের প্রথম কাজই হয় জন্ম নিবন্ধন করা। এটি না থাকলে স্কুলে ভর্তি, পাসপোরট, জাতীয় পরিচয়পত্র, এমনকি বিয়ের নিবন্ধনেও সমস্যা হয়। বর্তমান সময়ের সর্বশেষ আপডেট তথ্য অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে ৫৪টি ওয়ার্ডে মোট ১০টি প্রধান জোনাল অফিস ও ৩৬টি ওয়ার্ডভিত্তিক সাব-অফিসের মাধ্যমে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের কাজ করা হচ্ছে। এই আর্টিকেলে আজ আমরা আপনাকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন জন্ম নিবন্ধন অফিস এর সর্বশেষ আপডেট, অনলাইন আবেদনের ধাপ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি, সংশোধনের নিয়ম ও যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাবো।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন জন্ম নিবন্ধন অফিসের তালিকা ও ঠিকানা
ডিএনসিসি এলাকায় ১০টি প্রধান জোনাল অফিস ও প্রতিটি ওয়ার্ডে নিদিষ্ট অফিস রয়েছে। নিচে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় অফিসগুলির ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হলো:
| জোন নং | এলাকা | অফিসের ঠিকানা | ফোন নম্বর |
| জোন-১ | মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া | রোড-১০, ব্লক-ডি, সেকশন-৬, মিরপুর | ০২-৪৮০৩৪৮২১ |
| জোন-২ | উত্তরা | হাউস বিল্ডিং, সেক্টর-১৩, উত্তরা | ০২-৫৮৯৫৭৩৪১ |
| জোন-৩ | গুলশান, বনানী, মহাখালী | গুলশান-২, সিটি কর্পোরেশন ভবন | ০২-২২২২৮০৯৭৪ |
| জোন-৪ | মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি | রোড-৮/এ, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা | ০২-৯১২৩৪৫৬ |
| জোন-৫ | মিরপুর-১০, পল্লবী | মিরপুর-১০ গোলচত্বর, ডিএনসিসি মার্কেট কমপ্লেক্স | ০২-৮০৩৫৫৭৭ |
| জোন-৬ | ক্যান্টনমেন্ট এলাকা | ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের পাশে ডিএনসিসি জোনাল অফিস | ০২-৮৭১২৩৪৫ |
| জোন-৭ | খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ | খিলক্ষেত বাজার সংলগ্ন | ০২-৭৯১২৩৪৫ |
| জোন-৮ | বাড্ডা, রামপুরা | মধ্য বাড্ডা, প্রগতি সরণি | ০২-৯৮৮৭৬৫৪ |
| জোন-৯ | তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর | তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা | ০২-৮৮৭৭৮৮ |
| জোন-১০ | আগারগাঁও, শ্যামলী | আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা | ০২-৯১১০০১১ |
প্রতিটি ওয়ার্ডে ইউনিয়ন পরিষদের মতো কাউন্টারও আছে। সেগুলোর তালিকা ডিএনসিসি ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
আরও জানতে পারেনঃ জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করার নিয়ম
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন জন্ম নিবন্ধন অনলাইনে করার সহজ উপায়
২০২৫ সাল থেকে ডিএনসিসি পুরোপুরি অনলাইন সিস্টেমে চলে গেছে।birthdeathreg.dncc.gov.bd – এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গিয়ে ৫ মিনিটে আবেদন করা যায়। ধাপগুলো:
- ওয়েবসাইটে গিয়ে “জন্ম নিবন্ধন আবেদন” অপশনে ক্লিক করুন।
- শিশুর নাম, বাবা-মা’র এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, হাসপাতালের নাম (যদি থাকে) পূরণ করুন।
- ভ্যাকসিন কার্ড বা হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট আপলোড করুন।
- ডিএনসিসি এলাকা নির্বাচন করুন (উত্তর সিটি)।
- অনলাইনে ৫০ টাকা পে-ফি দিন (বিকাশ, নগদ, রকেট, কার্ড)।
- আবেদন সাবমিট করলে ৭-১৫ দিনের মধ্যে ডিজিটাল সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন।
অনলাইনে করলে আর অফিসে যেতে হয় না। তবে যাদের ইন্টারনেট নেই ও অনলাইন আবেদন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন না তারা ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে গিয়ে ফর্ম পূরণ করাতে পারেন।
জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
জন্ম নিবন্ধনের জন্য বেশ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয়ে থাকে। এসকল কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে:
- বাবা ও মা’র জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
- শিশুর ভ্যাকসিন কার্ড (ইপিআই কার্ড)
- হাসপাতাল/ক্লিনিকের জন্ম সনদ (যদি হাসপাতালে জন্ম হয়)
- বাসার বিদ্যুৎ বিল/হোল্ডিং ট্যাক্সের কপি (ঠিকানা প্রমাণের জন্য)
- অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি (যদি অফলাইনে যান)
৪৫ দিনের মধ্যে করলে কোনো জরিমানা লাগে না। ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে ৫০ টাকা, ৫ বছরের পর ১০০ টাকা জরিমানা।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নিয়ম ও ফি
নাম, তারিখ, বাবা-মা’র নাম ভুল হলে সংশোধন করতে হবে। ২০২৫ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
- অনলাইনে আবেদন করতে হবে (একই পোর্টাল)।
- সংশোধনের জায়গায় টিক দিয়ে পুরোনো সার্টিফিকেট আপলোড করতে হবে।
- এফিডেভিট (৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে) লাগবে।
- সাধারণ সংশোধন ফি ৫০০ টাকা, জটিল সংশোধন (বাবা-মা’র নাম) ১০০০ টাকা।
- ১৫-৩০ দিনের মধ্যে সংশোধিত জন্ম নিবন্ধন সনদ পাওয়া যায়।
ডুপ্লিকেট বা হারানো জন্ম সনদ পুনরুদ্ধার
জন্ম সনদ হারিয়ে গেলে বা ছিঁড়ে গেলে যা করণীয় তার মধ্যে রয়েছে:
- থানায় জিডি করুন (অনলাইন জিডি করলেও হবে। )।
- birthdeathreg.dncc.gov.bd-এ “পুনঃমুদ্রণ” অপশনে যান।
- ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ করুন।
- ১০০ টাকা ফি দিয়ে ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করুন।
- প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করিয়ে নিলেই হলো
শেষ কথা
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন জন্ম নিবন্ধন অফিস পূর্বের তুলনায় এখন অনেক বেশি স্মার্ট ও দ্রুত হয়েছে। শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে অনলাইনে করিয়ে ফেললে আর কোনো ঝামেলা থাকে না। আজই সময় বের করে আবেদন করে ফেলুন ও আগামীতে সুরক্ষিত থাকুন এবং আপনার সন্তানের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ুন। প্রত্যাশা করি আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পেরেছি। আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন।



