জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করার নিয়ম
জন্ম নিবন্ধন আবেদন পএ প্রিন্ট করার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পর প্রিন্ট কপি নিতে ভুলে যাওয়া, হারিয়ে ফেলা বা পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন, পাসপোর্ট অফিস, স্কুল-কলেজ ভর্তি বা চাকরির জন্য পুনরায় আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপির প্রয়োজন হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। অনেকে ভাবেন একবার আবেদন জমা দিলে আর প্রিন্ট করা যাবে না। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
BDRIS পোর্টালে শুধুমাত্র ১৭ ডিজিটের অ্যাপ্লিকেশন আইডি ও জন্ম তারিখ দিয়েই আপনি যেকোনো সময়, যেকোনো সংখ্যকবার জন্ম নিবন্ধনের আবেদনপত্র পুনরায় প্রিন্ট করতে পারবেন। এমনকি আবেদনটি ৫-১০ বছর আগের হলেও আপনি প্রিন্ট করে নিতে পারবেন খুব অনায়াসে। এবার তবে আসুন জেনে নেওয়া যাক জন্ম নিবন্ধন পএ প্রিন্ট করতে যা যা লাগবে এ সম্পর্কে।
জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করতে যা যা লাগবে
জন্ম নিবন্ধন আবেদন পএ প্রিন্ট করার জন্য বেশ কিছু তথ্য, ডকুমেন্টস ও ডিভাইস প্রয়োজন হয়ে থাকে। যেমন:
- আবেদনের সময় পাওয়া ১৭ ডিজিটের অ্যাপ্লিকেশন আইডি (যেটা মোবাইলে SMS-এ আসে এবং আবেদন সফল হওয়ার পর স্ক্রিনে দেখায়)।
- আবেদনকারীর সঠিক জন্ম তারিখ (দিন-মাস-বছর)।
- একটি কম্পিউটার/মোবাইল এবং ইন্টারনেট সংযোগ।
- প্রিন্টার (অথবা সাইবার ক্যাফে/দোকান থেকে প্রিন্ট করতে পারেন)।
ধাপে ধাপে জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করার সবচেয়ে সহজ নিয়ম
জন্ম নিবন্ধন আবেদন পএ প্রিন্ট করার জন্য আপনাকে বেশ কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে। নিম্নে বিস্তারিত আকারে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে:
১. প্রথমে ব্রাউজারে এই লিংকটি ওপেন করুন: https://bdris.gov.bd
(অথবা bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে উপরের মেনুতে “জন্ম নিবন্ধন” → “জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট” এ ক্লিক করুন)

২. “আবেদনপত্রের ধরন” ড্রপডাউন থেকে আপনার আবেদনের ধরন বেছে নিন। উদাহরণ:
- জন্ম নিবন্ধনের আবেদন
- জন্ম তথ্য সংশোধনের আবেদন
- জন্ম নিবন্ধন প্রতিলিপি আবেদন
- জন্ম নিবন্ধন বাতিলের আবেদন
- মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন
- মৃত্যু তথ্য সংশোধন/প্রতিলিপি আবেদন


৩. “অ্যাপ্লিকেশন আইডি” বক্সে পুরো ১৭ ডিজিটের নম্বর ইংরেজিতে লিখুন।
কোনো স্পেস, ড্যাশ বা বাংলা অক্ষর দেবেন না। উদাহরণ: 20231234567890123
৪. “জন্ম তারিখ” ক্যালেন্ডার থেকে সঠিক তারিখ সিলেক্ট করুন।
৫. নিচে ক্যাপচা পূরণ করে “প্রিন্ট” বাটনে ক্লিক করুন।
৬. একটি নতুন ট্যাবে পুরো আবেদনপত্রের PDF ওপেন হবে। উপরের ডান কোণায় Download আইকনে ক্লিক করে PDF সেভ করুন।
৭. PDF ওপেন করে A4 সাইজে প্রিন্ট করুন।
প্রিন্ট করার সময় যেসব ভুল এড়াবেন
- Chrome/Edge ব্রাউজারে প্রিন্ট করার সময় “More settings” এ গিয়ে:
- Headers and footers → চালু রাখুন (এতে তারিখ, পেজ নম্বর আসবে)
- Background graphics → চালু রাখুন (ওয়াটারমার্ক ও লোগো স্পষ্ট হবে)
- Scale 100% রাখুন অন্যথায় টেক্সট কেটে যেতে পারে।
- কালার প্রিন্ট করলে আরো ভালো দেখায় কিন্তু ব্ল্যাক-হোয়াইটও গ্রহণযোগ্য৷
কোন কোন আবেদনপত্র প্রিন্ট করা যায়?
আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রশ্ন এই যে জন্ম নিবন্ধনের কোন কোন সেবা প্রিন্ট করা যায়। জন্ম নিবন্ধন এর যে সকল সেবা প্রিন্ট করা যায় তার মধ্যে রয়েছে:
- নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন।
- ১৮ বছর পর সংশোধন আবেদন।
- নাম, জন্ম তারিখ, বাবা-মায়ের নাম সংশোধন।
- স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন আবেদন।
- ডুপ্লিকেট/প্রতিলিপি জন্ম নিবন্ধন আবেদন।
- জন্ম নিবন্ধন বাতিল আবেদন।
- মৃত্যু নিবন্ধন, সংশোধন, প্রতিলিপি আবেদন।
সব ধরনের আবেদনের প্রিন্ট কপি যেকোনো সময় অর্থাৎ সারাজীবন নেওয়া যায়।
অ্যাপ্লিকেশন আইডি হারিয়ে গেলে করণীয়
অনলাইনে প্রিন্ট করার জন্য অ্যাপ্লিকেশন আইডি বাধ্যতামূলক। হারিয়ে গেলে যা করবেন:
- যে ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করেছিলেন, সেখানে গিয়ে নাম, জন্ম তারিখ, বাবা-মায়ের নাম দিয়ে আইডি বের করে নিন।
- অনেক সার্ভার অফিসে পুরোনো রেজিস্টারে খুঁজে দেয়।
- বিকল্প হিসেবে নতুন করে সংশোধন/প্রতিলিপি আবেদন করতে পারেন – তখন নতুন আইডি পাবেন।
আরও জানতে পারেনঃ জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখুন
মোবাইল দিয়েও প্রিন্ট করা যায়?
হ্যাঁ! উপরের একই লিংক মোবাইলে ওপেন করে একইভাবে PDF ডাউনলোড করুন। তারপর নিকটস্থ দোকানে গিয়ে প্রিন্ট করে নিন। জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট কপি ছাড়া অনেক কাজ আটকে যায়। তাই আবেদনের সাথে সাথে অথবা প্রয়োজনের সময় এই নিয়মে সহজেই প্রিন্ট করে নিন।
শেষ কথা
প্রত্যাশা করি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে “ জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করার নিয়ম” সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পেরেছি। জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার সময় অবশ্য একটি কপি সংগ্রহ করে রাখুন। আর্টিকেলটি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে পারেন।



