১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে?
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে? এই প্রশ্নের উত্তর জানা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্যই জরুরি। যেকোনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, চাকরি বা উচ্চশিক্ষার জন্য ই-পাসপোর্ট অপরিহার্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস। এই আর্টিকেলে আমরা শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রই নয় বরং ২০২৫ সালে প্রযোজ্য হালনাগাদ ফি কাঠামো এবং সাশ্রয়ী কৌশলও বিস্তারিতভাবে জানাবো যা আপনার ১০ বছর মেয়াদী পার্সপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে করবে সহজ করে গড়ে তুলবে। তাহলে দেরি কেন চলুন বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক। তবে প্রথমেই আমরা জেনে নিবো ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে।
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে?
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে তার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ডকুমেন্টেশনের সঠিক প্রস্তুতি। ভুল বা অসম্পূর্ণ কাগজপত্র আবেদন বিলম্বের প্রধান কারণ হতে পারে। তাই সঠিক কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিন্মে উপস্থাপন করা হয়েছে:
- সঠিকভাবে পূরণকৃত অনলাইন আবেদন ফর্ম: ডিপার্টমেন্ট অফ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড পাসপোর্ট (ডিআইপি) এর ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম পূরণ করে সইসহ প্রিন্টকৃত কপি।
- মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ফটোকপি: স্মার্ট এনআইডি কার্ডের মূল কপি এবং এর সামনে-পিছনের ফটোকপি আবশ্যক।
- জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি: সকল আবেদনকারীর জন্য প্রয়োজন।
- বিদ্যমান পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে): মেয়াদোত্তীর্ণ বা নবায়নযোগ্য পাসপোর্টের প্রথম পাতার ফটোকপি।
- পেশাগত অবস্থানের প্রমাণপত্র: চাকরিজীবীদের জন্য অফিস আইডি কার্ড/নিয়োগপত্র, ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স এবং ছাত্রদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড/ভর্তি পত্র।
- মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা: সর্বশেষ অবস্থা জানাতে সক্রিয় যোগাযোগের মাধ্যম।
আরও জানতে পারেনঃ পাসপোর্টের কোন স্ট্যাটাসের কি মানে
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট প্রাপ্তির ধাপসমূহ
১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করার জন্য বেশ কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া একটি পদ্ধতিগত ধারাবাহিকতা মেনে চলে। নিন্মে বিস্তারিত আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে:
- অনলাইন আবেদন ও ফি জমা: ডিআইপি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে সব তথ্য (নাম, বাবা-মায়ের নাম ইত্যাদি এনআইডির সাথে শতভাগ মিল রেখে) দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন। এরপর নিচে উল্লিখিত হালনাগাদ ফি অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করুন।
- বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট ও যাচাই: অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে প্রিন্টকৃত ফর্ম ও সকল মূল কাগজপত্র নিয়ে যান। সেখানে আপনার ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষর নিবন্ধন করা হবে।
- পাসপোর্ট প্রস্তুতি ও গ্রহণ: যাচাই-বাছাই শেষে পাসপোর্ট মুদ্রণের পর আপনাকে এসএমএস জানানো হবে। নির্ধারিত ডেলিভারি সেন্টার থেকে আপনার নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের হালনাগাদ ফি কাঠামো ২০২৫
ফি কাঠামো পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদ এবং বিতরণের জরুরিতা অনুযায়ী ভিন্ন হয়। সকল ফি ১৫% ভ্যাটসহ।
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ৫,৭৫০ টাকা
- জরুরী বিতরণ: ৮,০৫০ টাকা
- অতীব জরুরী বিতরণ: ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ৮,০৫০ টাকা
- জরুরী বিতরণ: ১০,৩৫০ টাকা
- অতীব জরুরী বিতরণ: ১৩,৮০০ টাকা
বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে (সাধারণ আবেদনকারী):
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ১২৫ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ১৭৫ মার্কিন ডলার
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ১৭৫ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ২২৫ মার্কিন ডলার
বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে (শ্রমিক ও ছাত্র):
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ৫০ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ৭৫ মার্কিন ডলার
(দ্রষ্টব্য: বিদেশে ছাত্র ও শ্রমিকদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের ফি সাধারণ আবেদনকারীর সমান)
১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট বনাম ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট: কোনটি সাশ্রয়ী?
দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা এবং অর্থসাশ্রয়ের দিক থেকে ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট অধিক যুক্তিযুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশে নিয়মিত বিতরণে ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৪,০২৫ টাকা। ১০ বছরের জন্য দুইবার (৫+৫ বছর) নবায়ন করলে মোট খরচ পড়বে প্রায় ৮,০৫০ টাকা। কিন্তু সরাসরি ১০ বছর মেয়াদি নিলে খরচ মাত্র ৫,৭৫০ টাকা, যা প্রায় ২,৩০০ টাকা সাশ্রয় নিশ্চিত করে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট বুদ্ধিমানের কাজ।
জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন?
হঠাৎ ভ্রমণের প্রয়োজন হলে জরুরী বা অতীব জরুরী সার্ভিস নিতে পারেন। তবে এর জন্য যথাযথ প্রমাণপত্র (যেমন: চিকিৎসা কারণে ভ্রমণের টিকেট, জরুরি চাকরির অফার লেটার) প্রদর্শন করতে হতে পারে। ফি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলেও সময় বাঁচে অনেক।
শেষ কথা
আশা করি, “১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে” – এই প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ও হালনাগাদ তথ্য আমরা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে মনে রাখবেন, পাসপোর্ট শুধু একটি ডকুমেন্টস নয়, এটি আপনার আন্তর্জাতিক পরিচয়। তাই আবেদনের সময় সামান্যতম অসতর্কতা পরিহার করুন।আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে আপনি নির্দ্বিধায় কমেন্ট করে জানাতে পারেন।



