Birth Registration

জন্ম নিবন্ধন করতে কতদিন সময় লাগে 

জন্ম নিবন্ধন করতে কতদিন সময় লাগে জানেন কী? সন্তানের জন্মের পর প্রথম যে কাজটি মা-বাবার মাথায় আসে তা হলো জন্ম নিবন্ধন। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে জন্ম নিবন্ধন করতে কতদিন সময় লাগে এবং কোন সময়ের মধ্যে করলে কোনো জটিলতা ছাড়াই সন্তানের ভবিষ্যত নিরাপদ করতে জন্ম নিবন্ধন করা যায়। আজকের এই লেখায় আমরা বিস্তারিত জানবো বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের নিয়ম, সময়সীমা, বিলম্ব ফি, অনলাইন আবেদন পদ্ধতি ও সর্বশেষ আপডেট তথ্য। আর্টিকেলটি সম্পূর্ণভাবে পড়লে আপনার আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না।

জন্ম নিবন্ধনের আইনি সময়সীমা কত?

বাংলাদেশের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করতে হবে। এই ৪৫ দিনকে বলা হয় “নিয়মিত সময়সীমা”। এই সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করলে কোনো জরিমানা লাগে না ও জন্ম নিবন্ধন একেবারে বিনামূল্যে পাওয়া যায়। 

যদি ৪৫ দিন পার হয়ে যায় কিন্তু ৫ বছরের আগে আবেদন করেন তাহলে বিলম্ব ফি দিতে হয় মাত্র ৫০ টাকা। আর ৫ বছরের পর আবেদন করলে বিলম্ব ফি ১০০ টাকা। তবে এখনো অনেকে ভুল ধারণার কারণে বছরের পর বছর দেরি করে ফেলেন।

জন্ম নিবন্ধন করতে কতদিন সময় লাগে 

অনলাইনে আবেদন করলে ও সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে:

  • ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন থেকে সাধারণত ৩-৭ কার্যদিবসের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন সনদ হাতে পাওয়া যায়।
  • ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে অনেক সময় ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই প্রিন্টেড কপি দেওয়া হয়।
  • গ্রামাঞ্চলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে (UDC) আবেদন করলে ৫-১০ দিনের মধ্যে সনদ পাওয়া যায়।

তবে যদি কোনো তথ্যে ভুল থাকে বা হাসপাতাল থেকে জন্ম প্রমাণপত্র না থাকে। তাহলে ১৫-৩০ দিনও লাগতে পারে।

আরও জানতে পারেনঃ জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখুন

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার ধাপসমূহ

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সনদ করার জন্য আপনাকে বেশ কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে। এসকল ধাপ নিম্নে উপস্থাপন করা হয়েছে:

  • ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: https://bdris.gov.bd
  • “জন্ম নিবন্ধন আবেদন” অপশনে ক্লিক করুন। 
  •  জন্ম তারিখ, স্থান, বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন নম্বর (যদি থাকে) প্রদান করুন।
  •  হাসপাতালের ডিসচার্জ সার্টিফিকেট/টিকা কার্ড/ইপিআই কার্ড আপলোড করুন।
  • স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা পূরণ করু। 
  • সাবমিট করার পর আবেদন নম্বর ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করুন।
  •  স্থানীয় নিবন্ধকের কার্যালয়ে গিয়ে ভেরিফিকেশন করান।
  • প্রিন্টেড কপি সংগ্রহ করুন

দেরিতে জন্ম নিবন্ধন করলে কী কী সমস্যা হয়?

শিশুর জন্মের পর জন্ম নিবন্ধন সনদ করে রাখা সর্বোত্তম। অনেকেই রয়েছেন যারা শিশুর জন্মের পরেও জন্ম নিবন্ধন সনদ করেন না। এর ফলে উক্ত শিশুকে আগামীতে নানাভাবে সমস্যায় পড়তে হয়। এ সকল সমস্যার মধ্যে রয়েছে:

  • পাসপোর্ট করতে গেলে সমস্যা। 
  • বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির জন্য জন্ম সনদ লাগে। 
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) করতে গেলে বাধ্যতামূলক।
  • বয়স সংশোধন করতে গেলে মামলা করতে হয়। 
  • বিবাহ নিবন্ধন, ভোটার তালিকাভুক্তি, সরকারি চাকরি – সবকিছুতেই বাধা হয়।

তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জন্ম নিবন্ধন করে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কতদিন লাগে?

যদি নাম, তারিখ বা বাবা-মায়ের নামে ভুল থাকে, তাহলে অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করতে হয়। সাধারণত:

  • ছোটখাটো ভুল (বানান) – ৭-১৫ দিন
  • বড় সংশোধন (তারিখ/নাম পরিবর্তন) – ৩০-৯০ দিন (কারণ স্থানীয় নিবন্ধক, উপজেলা নিবন্ধক ও বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন লাগে)

২০২৬ সালের নতুন নিয়মাবলী

  • এখন থেকে হাসপাতালে জন্ম হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করে দেবে (পাইলট প্রজেক্ট চলছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীতে)
  • ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন না হলে হাসপাতালকে জরিমানা করা হবে
  • জন্ম নিবন্ধন নম্বর এখন জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে লিংক হয়ে যাচ্ছে জন্মের সময়ই

জন্ম নিবন্ধন করতে কতদিন সময় লাগে এলাকাভিওিক

এলাকাভিত্তিকভাবে জন্ম নিবন্ধন সনদ করতে বিভিন্ন জায়গায় কম বেশি সময় প্রয়োজন হয়ে থাকে। নিচের ছকে যেসব এলাকায় জন্ম নিবন্ধন করতে যেমন সময় প্রয়োজন হয় তা সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে:

এলাকাসময়সীমা (কার্যদিবস)মন্তব্য
ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি১-৩ দিনসম্পূর্ণ অনলাইন, দ্রুত প্রিন্ট
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন৩-৭ দিনকিছু ওয়ার্ডে দেরি হয়
পৌরসভা৫-১০ দিননিবন্ধকের উপর নির্ভর করে
ইউনিয়ন পরিষদ৭-১৫ দিনসচিবের স্বাক্ষর লাগে
বিদেশে জন্ম (বাংলাদেশি দূতাবাস)১৫-৩০ দিনকাগজপত্র পাঠাতে দেরি হয়

প্রায়শ্নোত্তর (FAQ)

জন্ম নিবন্ধন করতে কতদিন সময় লাগে যদি আমি বিদেশে থাকি?

দূতাবাসে আবেদন করলে ১৫-৩০ দিন লাগে। তারপর বাংলাদেশে সার্ভারে এন্ট্রি হতে আরও ১৫ দিন।

জন্ম নিবন্ধন হারিয়ে গেলে নতুন করে কতদিন লাগবে?

অনলাইনে ডুপ্লিকেট আবেদন করলে ১-৩ দিনের মধ্যে পাওয়া যায়।

৪৫ দিন পার হয়ে গেছে, এখনো কি ফ্রি করা যাবে?

না, ৫০ বা ১০০ টাকা বিলম্ব ফি দিতে হবে।

শেষ কথা

জন্ম নিবন্ধন শুধু একটা কাগজ নয় বরং এটা আপনার সন্তানের পরিচয়, নাগরিকত্ব ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা। তাই জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই নিবন্ধন করে ফেলুন। আর যদি দেরি হয়ে থাকে, তাহলেও আজই শুরু করুন। কারণ জন্ম নিবন্ধন করতে কতদিন সময় লাগে – তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এটা সময়মতো করে নেওয়া। প্রত্যাশা করি আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছি। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button