পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম
পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম জানেন কি? আমাদের মধ্যে অনেকের পাসপোর্টে কমবেশি ভুল দেখা যায়। পূর্বে পাসপোর্টের ভুল সংশোধন করা কঠিন হলেও বর্তমান সময়ে পাসপোর্টের তথ্যভুল থাকলে এখন অনলাইনে আবেদন করে তা সংশোধন করা সম্ভব। বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই পাসপোর্ট সংশোধন করা যায়। পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তনে কোন কোন কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় ওপ বাড়ি থেকে বসে অনলাইনে পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদন কীভাবে করতে হয়—সেই সব বিষয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
বিগত ২০২২ সালের শেষভাগে পাসপোর্ট সংশোধনের পদ্ধতিতে কিছু নতুন নিয়ম চালু করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন নিরাপত্তা ও বহিরাগমন বিভাগ কর্তৃক ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে জারি করা এক পরিপত্র অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে অমিল থাকলে এখন আইডি কার্ডের তথ্য অনুসারে পাসপোর্ট সংশোধন করা যাবে।
পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম
যদি পাসপোর্টে কোন ভুল থেকে থাকে তাহলে পাসপোর্ট সংশোধন করতে প্রথমে ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ‘নতুন ই-পাসপোর্ট আবেদন করুন’ অপশন বেছে নিয়ে পাসপোর্টের ধরন, ব্যক্তিগত তথ্য এবং ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ‘আইডি ডকুমেন্টস’ ধাপে এসে পূর্ববর্তী পাসপোর্টের ধরন এবং রি-ইস্যুর কারণ হিসেবে “DATA CHANGE” নির্বাচন করে আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে।

আপনার পূর্ববর্তী পাসপোর্ট নম্বর ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য দিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন সম্পন্ন করুন। আবেদন করার সময় খেয়াল রাখবেন যে, আপনার প্রদত্ত সকল তথ্য যেন জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
পাসপোর্ট সংশোধনের অনলাইন আবেদন
পাসপোর্ট সংশোধন করা ও অনলাইনে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পদ্ধতি প্রায় একই রকম। কেবল ‘আইডি ডকুমেন্টস’ ধাপে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে বাকি সকল বিষয় নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম মতই সম্পন্ন করতে হয়।
পাসপোর্ট সংশোধনের জন্য অনলাইনে ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয়। রি-ইস্যুর কারণ হিসেবে তথ্য পরিবর্তন (DATA CHANGE) অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। পূর্বের পাসপোর্ট নম্বর ও বর্তমানে যেসব সঠিক তথ্য প্রদান করতে চান সেগুলো দিয়ে আবেদনটি সম্পূর্ণ করতে হবে।
আপনি পূর্বের পাসপোর্ট সংশোধন করে যেসব নতুন তথ্য দেবেন সেগুলো অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এর তথ্যের সাথে হুবহু মিলতে হবে। সংশোধিত তথ্যের সাথে এনআইডি কার্ডের তথ্যের অমিল থাকলে আবেদনটি নাকচ হয়ে যেতে পারে।
পাসপোর্ট সংশোধন করতে সাধারণত যেসব ধাপ অনুসরণ করতে হয় এ সকল ধাপ নিন্মে উপস্থাপন করা হয়েছে:
- ই-পাসপোর্ট ওয়েবসাইটে একাউন্ট নিবন্ধন করা।
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী সঠিক তথ্য প্রদান।
- নতুন পাসপোর্টের আবেদন ফরমটি পূরণ করা।
- ‘আইডি ডকুমেন্টস’ ধাপে গিয়ে পূর্বের পাসপোর্টের তথ্য এবং রি-ইস্যুর কারণ হিসেবে “DATA CHANGE” নির্বাচন করা।
- পাসপোর্টের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করা।
- অঙ্গীকারনামা লেখা।
- পুরাতন পাসপোর্টসহ সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আবেদনটি সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে জমা দেওয়া।
অনলাইনে পাসপোর্ট সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়া হয়ে গেলে আবেদন ফরম ও অ্যাপ্লিকেশন সামারি ডাউনলোড করে নিতে হবে। ব্যাংকে গিয়ে অথবা ই-চালানের মাধ্যমেও পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়া যায়। ফি পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট চালান বা রসিদের কপি সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার পর আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ অনুযায়ী সকল কাগজপত্র সাথে নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে হাজির হতে হবে। তবে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ক্ষেত্রে অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখের বাধ্যবাধকতা নেই; সেখানে সরকারি ছুটির দিন ও সাপ্তাহিক বন্ধ ব্যতীত যেকোনো কাজের দিনে আবেদন জমা দেওয়া যায়।
একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে যে, অনলাইনে আবেদন করার পর সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে আবেদনটি পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে আবেদন জমা না দিলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং পরে নতুন করে আবেদন করতে হবে।
আরও জানতে পারেনঃ সঠিক নিয়মে নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করার নিয়ম
পাসপোর্ট সংশোধন করতে যে সকল কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়
পাসপোর্টের কোন ধরনের তথ্য পরিবর্তন করা হবে তার উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণভাবে পাসপোর্টের তথ্যভুল সংশোধন করতে সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলোর প্রয়োজন হয়:
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড
- অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে)
- পুরাতন পাসপোর্ট এবং তার ফটোকপি
- অঙ্গীকারনামা
- লিখিত আবেদন
- পাসপোর্টে পিতা-মাতার নামে ভুল থাকলে, আবেদনের সাথে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।
পাসপোর্টে জন্ম তারিখ সংশোধন
পাসপোর্টের জন্ম তারিখ সংশোধন করতে জাতীয় পরিচয়পত্র অত্যাবশ্যক। আবেদন করার সময় আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে রাখবেন এবং এর ফটোকপি তৈরি করে নেবেন। প্রয়োজন মনে করলে, অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে আপনার জেএসসি/এসএসসি/এইচএসসি বা সমমানের কোনো বোর্ড পরীক্ষার সনদও আবেদনের সাথে জমা দিতে পারেন।
পাসপোর্ট সংশোধনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতেই পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তন করে নতুন ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যায়। তাই, সহজভাবে বলা যায় যে, কেবল বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেও পাসপোর্টের জন্ম তারিখ সংশোধন করা সম্ভব।
শেষ কথা
প্রত্যাশা করি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে “ পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম “ সম্পর্কে আপনাকে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছি। এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে যদি আপনার কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন।



