ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম পূরণ করার নিয়ম
ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার জন্য কি আপনি ফরম অনুসন্ধান করছেন? আজকাল অনেকেই এক জেলা থেকে আরেক জেলায় বা এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় চলে যান চাকরি, পড়াশোনা কিংবা ব্যবসার কারণে বসতি স্থাপন করে থাকেন। কিন্তু ভোটার এলাকা পুরনো জায়গায় থেকে গেলে ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই সমস্যার সহজ সমাধান হচ্ছে ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম পূরণ করে স্থানান্তর করা। ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার পদ্ধতি একদমই জটিল নয় যদি আপনি সঠিক ধাপগুলো জানেন। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আজ আমরা আপনাকে “ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম পূরণ” সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানাবো। সেহেতু এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন কেন করবেন?
অনেকে মনে করেন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করলে নতুন এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়। আসলে তা নয়। এটা শুধুমাত্র আপনার ভোটার তালিকার এলাকা পরিবর্তন করে। ফলে আপনি যেখানে বর্তমানে বসবাস করছেন সেখান থেকেই ভোট দিতে পারবেন। এতে করে:
- বর্তমান স্থানে জাতীয় নির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সবকিছুতেই সহজে ভোট দিতে পারবেন।
- ভোটকেন্দ্র হবে আপনার বাড়ির কাছাকাছি।
- সরকারি-বেসরকারি অনেক সেবা নিতে ভোটার এলাকার প্রমাণ প্রয়োজন হয়ে থাকে। এই সুবিধা দ্রুত সমাধান হয়ে যায়।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম পূরণ করার পূর্বশর্ত
ভোটার এলাকা স্থানান্তরের জন্য আপনাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে ও বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি যে নতুন এলাকায় ভোটার হতে চান সেখানে অন্তত ১ বছর ধরে বসবাস করছেন এমন প্রমাণ দেখাতে হবে (বিদ্যুৎ বিল, ভাড়ার চুক্তিপত্র ইত্যাদি)।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম কোথায় পাবেন?
আপনার প্রয়োজন হবে ফরম-১৩ (ভোটার তালিকায় নাম স্থানান্তরের আবেদনপত্র)। এটি পাওয়া যায় দুইভাবে:
১. অনলাইনে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করা।
২. বর্তমান ভোটার এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা। আবার আপনি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন।
ফরম সংগ্রহের ঠিকানা: https://services.nidw.gov.bd/forms/nid-form-13.pdf
ফরম-১৩ কীভাবে পূরণ করবেন? (ধাপে ধাপে)
ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম পূরণ করার সময় সবচেয়ে বেশি ভুল হয় বলে অনেকের আবেদন বাতিল হয়ে যায়। নিচে ধাপে ধাপে পূরণ পদ্ধতি দেওয়া হলো:
১. প্রথম পৃষ্ঠা

- বক্স ১: পুরনো ভোটার এলাকার বিস্তারিত (বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন/পৌরসভা, ওয়ার্ড নম্বর)
- বক্স ২: নতুন ভোটার এলাকার বিস্তারিত (যেখানে স্থানান্তর করতে চান)
- বক্স ৩: আপনার এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, নাম বাংলা ও ইংরেজিতে
- বক্স ৪: বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা (নতুন এলাকার)
২. দ্বিতীয় পৃষ্ঠা

- বক্স ১৩: নতুন এলাকায় কতদিন ধরে বাস করছেন তার উল্লেখ
- বক্স ১৪: শনাক্তকারীর তথ্য (নিচে বিস্তারিত দেওয়া আছে)
টিপস: কালো বলপেন দিয়ে বড় হাতের অক্ষরে লিখুন। কোনো কাটাকাটি করবেন না।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?
ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার জন্য প্রমাণপত্র হিসেবে বেশ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয়ে থাকে। নিচের ছকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত করা হয়েছে:
| ক্রম | প্রয়োজনীয় কাগজপত্র | বিবরণ |
| ১ | ফরম-১৩ (পূরণকৃত) | অবশ্যই সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে |
| ২ | এনআইডি কার্ডের রঙিন ফটোকপি | ২ কপি, সত্যায়িত করা ভালো |
| ৩ | নতুন এলাকার নাগরিকত্ব সনদ | ইউপি চেয়ারম্যান/পৌর মেয়র/কাউন্সিলর কর্তৃক ইস্যুকৃত |
| ৪ | বসবাসের প্রমাণ | বিদ্যুৎ বিল/গ্যাস বিল/পানি বিল/হোল্ডিং ট্যাক্স রশিদ/ভাড়ার চুক্তিপত্র (সর্বশেষ ১ বছরের) |
| ৫ | শনাক্তকারীর স্বাক্ষর ও সিল | নতুন এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর/ইউপি চেয়ারম্যান/পৌর কাউন্সিলরের NID নম্বরসহ স্বাক্ষর |
| ৬ | পাসপোর্ট সাইজের ছবি | ২ কপি (যদি অনলাইনে আবেদন করেন) |
কোথায় ও কীভাবে ফরম জমা দিতে হবে?
বর্তমান সালের নিয়ম অনুযায়ী দুটি উপায় আছে:
১. অফলাইন: আপনার বর্তমান ভোটার এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে সশরীরে গিয়ে জমা দিতে হবে। অন্য কোনো অফিসে দিলে গ্রহণ করা হবে না।
২. অনলাইন: কিছু জেলায় services.nidw.gov.bd থেকে অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে। তবে এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।
জমা দেওয়ার পর রশিদ সংগ্রহ করুন। এই রশিদ দিয়েই পরে স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
ভোটার এলাকা পরিবর্তন হতে কতদিন লাগে?
সাধারণত ১৫-৪৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অনুমোদন হলে আপনার এনআইডি পোর্টালে নতুন এলাকা দেখাবে। SMS-ও আসবে।
নতুন ঠিকানা যুক্ত এনআইডি কার্ড পাবেন কি?
না। শুধু ভোটার এলাকা পরিবর্তন করলে নতুন কার্ড ইস্যু হয় না। আপনার পুরনো কার্ডেই কাজ চলবে। তবে যদি নতুন ঠিকানা প্রিন্ট করা কার্ড লাগে তাহলে Re-issue করতে হবে। Re-issue ফি ২৩০ টাকা (অনলাইনে ১১৫ টাকা + ডেলিভারি চার্জ)।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম পূরণ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে যা বিভিন্ন পাঠকেরা প্রশ্ন করে থাকেন। যেমন:
বিদেশ থেকে ফরম জমা দেওয়া যায়?
না। অবশ্যই নিজে বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কাউকে দিয়ে বর্তমান ভোটার এলাকার অফিসে জমা দিতে হবে।
অনলাইনে পুরোপুরি হয়ে গেলে কি অফিসে যেতে হবে না?
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরোপুরি অনলাইন সুবিধা চালু হয়নি।
ভুল হলে আবার আবেদন করতে হবে?
হ্যাঁ। তাই ফরম পূরণের আগে দুইবার চেক করুন।
শেষ কথা
প্রত্যাশা করি আজ আমরা আপনাকে, ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম পূরণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছি। আপনি যদি আপনার নিজ এলাকা ছাড়া যদি অন্য কোন স্থানে বসবাস করে থাকেন দীর্ঘদিন ধরে তাহলেভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরম পূরণ করে আজই আপনার ভোটার তালিকা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর করুন। এতে করে আগামী নির্বাচনে আপনার ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকবে ও কোনো ভোগান্তি পোহাতে হবে না। আপনার যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, কমেন্ট করুন। আর পোস্টটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না যাতে তারাও উপকৃত হতে পারে।



